শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন

বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি: বাসদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : আয়তন বাড়লেও বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বাজেট ঘোষিত হলেও সে অনুযায়ী কৃষি, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, গবেষণা, কর্মসংস্থান খাতে বরাদ্দ টাকার অংকে সামান্য বাড়লেও আনুপাতিক হারে মোটেও বাড়েনি। করোনা দুর্যোগে আক্রান্ত খাতগুলো আলোচনায় যতটা এসেছে বাজেটে ততটা মনোযোগ পায়নি। বাস্তবতাকে বিবেচনায় না নিয়ে প্রবৃদ্ধি বেশি দেখানোর প্রবণতা বাজেটের বাস্তবায়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

খালেকুজ্জামান বলেন, উচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে গত বাজেটে ৩০ শতাংশ কর ধার্য করা ছিল। এবার সেটা কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে অথচ মাসে ২৫ হাজার টাকার ওপর আয় করলে তাকে করের আওতায় আনা হয়েছে। ভ্যাটের আওতা বাড়ানো হয়েছে তাতে সাধারণ মানুষ পরোক্ষ কর দিতে বাধ্য হবেন কিন্তু যারা সৎ-অসৎ নানা উপায়ে বিপুল সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে কর বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বরং উৎসে কর, করপোরেট করসহ নানা ক্ষেত্রে রেয়াত দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। দেশে ধনী দরিদ্রের ব্যবধান বাড়ছে, করোনা দুর্যোগ সাধারণ মানুষের আয় কমিয়ে ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হচ্ছে না, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না বরং প্রবাসীদের ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাজেটে ফিরে আসা এই প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানের কোনও পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি।

তিনি বলেন, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে আগের চেয়ে আরো নমনীয় শর্তে। কিন্তু এ পর্যন্ত ১৬ বার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার পরও মাত্র ১৪ হাজার কোটি টাকা সাদা হয়েছে, যার মধ্যে ৯ হাজার কোটি টাকাই ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। ফলে কালো টাকা সাদা করার সুযোগে দুর্নীতি আরো বাড়বে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com